মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৯

বাসর রাতে বিড়াল মারা কাহিনী !!

ছোট ফুফু বেশ ঝাঁঝালো গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর কি সত্যিই কোনো প্ল্যানপ্লুন নেই?’
আমি মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেয়ালে শিকারের অপেক্ষায় থাকা একটা টিকটিকি দেখছিলাম। ফুফুর গলার ঝাঁজে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখার সৌভাগ্য হলো না। তাঁর দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘কয়েকটা টিকটিকি মারলে কেমন হয়?’
এবার রীতিমতো হুংকার ছাড়লেন তিনি, ‘থাপড়ায়ে দাঁত ফেলে দিব! আমি তোর সাথে ইয়ার্কি করছি?’
দাঁত ফেলে দেওয়ার কথায় দমে গেলাম। ফুফুর ধারণা, আমার মতো একটা ‘হ্যাবলাকে’ বউ নামক মানুষটি উঠতে-বসতে ‘বেচে খাবে’! কাজেই তেমন কিছু যাতে না হয়, তার জন্য এখনই ‘প্ল্যানপ্লুন’ করা দরকার! আমার এই ফুফু আমার দেখা দুনিয়ার সবচেয়ে বোকা এবং ভয়ংকরতম নারী। আমাদের গোষ্ঠীতে অন্ত কিংবা আন্তপারিবারিক ঝুট-ঝামেলায় পরামর্শক হিসেবে তো কাজ করেনই, ধমকি-ধামকি এবং চড়-থাপড় দেওয়ার কাজগুলোও নিজে দায়িত্ব নিয়ে করেন!
খানিক বাদেই একটু সুর নরম করে বললেন, ‘বাসর রাতে বিড়াল মারার কথা যে বলেছি, গল্পটা জানিস তো? বউকে যা টাইট দেওয়ার, বাসর রাতেই দিতে হয়!’
আমি একটু হাই তোলার মতো ভঙ্গি করে বললাম, ‘এই মেয়ে তো আধুনিক যুগের। বিড়াল-টিড়াল মারলে ভয় পাবে না। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বরং খাঁচায় বন্দী বাঘ-সিংহের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়!’
এবার আর মুখে নয়, চোখের অগ্নিদৃষ্টি দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন যে ‘থাপড়ায়ে’ আরও একবার দাঁত ফেলতে ইচ্ছুক তিনি! আমি আবারও দমে গিয়ে বললাম, ‘ঠিক আছে, তুমিই বলে দাও কী করতে হবে।’
‘আজ বাদে কাল বিয়ে। এখন তো আর তেমন কিছু ভেবে বের করা যাবে না। তুই বরং তোদের পোষা বিড়ালটাকেই...’
ফুফু কথা শেষ করতে পারলেন না। এতক্ষণ নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা ফুফা বলে উঠলেন, ‘তোমার মাথাটাথা খারাপ হয়েছে নাকি! কী আবোলতাবোল বকছ!’
ফুফু নির্লিপ্ত গলায় বললেন, ‘হ্যাঁ, খারাপ হয়েছে তো মাথা! এখন তুমি কী করবে?’
ফুফা এমনভাবে চুপ করে গেলেন যে আমি বুঝলাম, ছোট ফুফুর মতো কারও মাথা খারাপ হলে কী করা উচিত, সেটা তাঁর জানা নেই! ফুফু আমার দিকে তাকিয়ে কী একটা বলতে গিয়ে আবার ফুফার দিকে চেয়ে বললেন, ‘যেভাবে বসে আছে, ওভাবেই চুপ করে বসে থাকুক। কথার মধ্যে বাঁ হাত ঢোকানোর দরকার নেই!’
তারপর আমাকে হাতেকলমে শিখিয়ে-পড়িয়ে দিলেন, কীভাবে কী করতে হবে। আগে থেকেই বাসার আধপোষা কম বয়সী বিড়ালটাকে খাটের নিচে রেখে আসা হবে। বিড়াল তো আর ছোট ফুফা নয় যে চুপচাপ বসে থাকবে! তার কাজই হচ্ছে মিউ মিউ করা! আর যে-ই মিউ করবে, আমার কাজ হবে মুখে চূড়ান্ত বিরক্তির ভাব এনে ‘এইটা আবার কোত্থেকে আসল’ বলে খেল দেখানো!
আমি অনেক কষ্টে হাসি চেপে রাখলাম! কিন্তু ফুফুর কথা না শুনে উপায় নেই। এই বোকা মানুষটার কথায় অন্যথা হলে বিয়েবাড়িতে লঙ্কাকাণ্ড বেধে যাবে। তা ছাড়া ব্যাপারটা দেখে নতুন বউ কেমন ভড়কে যায়, সেটাও খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল।
অবশেষে ‘আজ বাদে কালের’ সেই বাসর রাত এল। পরিকল্পনামাফিক সবকিছুই হয়েছে। এখন ধর তক্তা মার পেরেক! কিন্তু বাসরঘরে ঢুকেই আক্কেলে বিরাট ধাক্কা লাগল। খাটের ওদিক থেকে আওয়াজ এল, ‘ফ্যানের সুইচটা অন করেন তো, গরমে দম বন্ধ হয়ে আসছে!’ তাকিয়ে দেখি ঘোমটা-টোমটা ফেলে উনি আয়েশ করে বসে আছেন! এটা কেমন কথা! এত দিন কল্পনা করে আসছি, সিনেমাটিক কায়দায় গিয়ে ঘোমটা সরিয়ে থুতনি একটু ওপরে তুলে বলব, ‘বাহ্, কী অপূর্ব!’ আর এখন?
পাশে গিয়ে বসতেই রাজ্যের আলাপ জুড়ে দিল। কত কী কাহিনি! কিন্তু বিড়ালটার হয়েছেটা কী? কতক্ষণ হয়ে গেল অথচ মিউ করার নাম নেই! খানিক পর আমার অস্থিরতা দেখে চোখে কৌতুক নিয়ে বলল, ‘বিড়াল খুঁজছেন?’ আমার হাঁ করা মুখের দিকে না চেয়েই বলতে লাগল, ‘সেই তখন থেকে মিউ মিউ করছে, তাই একটা আছাড় দিয়ে দিলাম শেষ করে!’
তারপরই প্রাণখোলা হাসিতে ঘর কাঁপিয়ে, আঁচলের নিচ থেকে জুলজুল করে তাকিয়ে থাকা বিড়ালটা বের করে আহ্লাদি গলায় বলল, ‘এমন বোকাও মানুষ হয়! এই গল্প তো সবারই জানা। আর ভালোবাসা ছাড়া আমাকে অন্য কোনো জিনিস দিয়ে কাবু করা যাবে না, সেটা আগেই বলে দিচ্ছি!’ ততক্ষণে আবিষ্কার করলাম অন্ধকার ঘরে তার একটা হাত আমার হাতে!

আজ মুমুর বাসর রাত !

আজ মুমুর বাসর রাত !

আজ মুমুর বাসর রাত, পারিবারিকভাবেই ওর বিয়ে হয়েছে । ও গুটিশুটি মেরে খাটের মাঝখানে বসে আছে। এইমাত্র ওর বর রিয়াদ রুমে প্রবেশ করলো।

– কেমন আছ মুমু?

– দেখুন আমি আপনাকে বিয়ের আগেই সব কিছু বলতে চেয়েছি, কিন্তু আপনি আমাকে বলার কোনো সুযোগ দেননি।

– ঠিক, কিন্তু আমি বলেছিলাম বাসর রাতে সব শুনবো। এখন বলো তোমার কি সেই জমে থাকা কথা ।

– আমি জানিনা আমার সব কথা শোনার পর আপনি আমার দিকে তাকাতে পারবেন কিনা ।

– আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারো..

মুমু ফিরে গেল এক বছর আগে। মুমু মফস্বলের এক কলেজ থেকে এইচ.এস.সি দিয়ে ঢাকায় এসেছে কোচিং করতে, উঠেছে এক দূরসর্ম্পকের আত্মীয়ের বাসায় । সেখান থেকে ও কোচিং করতো নিয়মিত, আস্তে আস্তে ওই কোচিং সেন্টারের এক বড় ভাইয়ের সাথে ওর কিছুটা ঘনিষ্ঠতা হয়, যে কিনা ওকে বিভিন্ন বিষয়ে হেল্প করতো।

ছেলেটির নাম ছিল রতন। আস্তে আস্তে ওদের সম্পর্ক আরও গভীর হলো, আপনি থেকে তুমিতে গড়ালো। যেদিন কোচিং শেষ হলো সেদিন রতন মুমুকে বলেছিল, কালকে আমরা একটা ছোটখাট অনুষ্ঠান করবো তোমাকেও আসতে হবে।

পরের দিন মুমু গিয়ে দেখে কেউ নেই, রতন তাকে বলেছিল সবাই এখনি চলে আসবে তুমি ভিতরে গিয়ে বসো, টেবিলের উপর জুস রাখা আছে ইচ্ছে করলে খেতে পারো। মুমু এক গ্লাস জুস পান করলো ,কেমন যেন খারাপ লাগছে ওর মাথাটা ঝিমঝিম করছে। এরপর আর ওর কিছুই মনে

নেই !

হুশ ফিরে পাওয়ার পর ও বুঝতে পারলো কি হয়েছে ওর সাথে। তারপর রতনকে সে অনেক খুঁজেছে, কোনো ভাবেই আর রতনের দেখা পেল না।

এই ঘটনার পর মুমু খুব ভেঙে পড়ে, ভার্সিটি পরীক্ষা না দিয়েই বাড়িতে ফিরে আসে। মা বাবাকে সে বলেছিল, তাদের ছেড়ে ওর পক্ষে ঢাকায় থাকা সম্ভব না। তারপর সেই মফস্বল কলেজেই অনার্সে ভর্তি হয় ও।

মুমুর নিজের কাছে খুব হালকা মনে হচ্ছে এখন, রিয়াদকে সে কথাগুলো বলতে পেরেছে। আবার পরক্ষণেই ওর মনটা ভারী হয়ে গেল কারণ এসব কথা শুনার পর রিয়াদের রিয়েকশান ভালো হবার কথা না ।

– তোমার কথা শেষ ?

– হুম

– তুমি এতক্ষণ যা যা বললে সবই আমি জানি।।

– মানে?

– মানে রতন আমার আপন বড় ভাই ! (মুমুর মনে হচ্ছে, ও হাজারভোল্টের একটা বৈদ্যুতিক শক খেল)!!!

– আপনি এসব কি বলছেন?

– আমি তখন লন্ডনে, বিবিএ শেষ হয়নি তখনো। জানতে পারলাম ভাইয়া রোড এক্সিডেন্ট করেছে, এর তিনদিন পর আবার খবর এলো ভাইয়া মারা গেছে। এর কয়েক মাস পর আমার বিবিএ শেষ হয়ে যায় এবং আমি দেশে ফিরি। ভাইয়া মারা যাবার আগে মা বাবার কাছে তোমার ছবি এবং ঠিকানা দিয়ে যায়।

আর তোমার সাথে সে যা যা করেছে সব মা বাবার কাছে স্বীকার করে। মারা যাওয়ার ঠিক আগ মূহুর্তে সে বলছিল ‘মুমুর সাথে আমি যে অপরাধ করেছি তার জন্য আল্লাহ আমাকে এই শাস্তি দিয়েছে, তোমরা পারলে ওর জন্য কিছু করো’।

– আপনি এসব কথা আগে বলেননি কেন?

রিয়াদ বললো, আমার ভয় ছিল যদি তুমি সব কিছু শুনে বিয়েতে রাজি না হও।

– একটা প্রশ্ন করতে পারি?

– অবশ্যই ।

– দুনিয়াতে এতো মেয়ে থাকতে আপনি আমাকে কেন বিয়ে করলেন?

– প্রায়শ্চিত্ত করতে, আর মা বাবাও চায় তোমার সাথে আমার বিয়ে হোক।

– অপরাধ করেছে আপনার ভাই আপনি কেন প্রায়শ্চিত্ত করবেন?

– বিশ্বাস করো মুমু সব ঘটনা শুনার পর আমার মনে হতে লাগলো যেন আমি নিজেই এর জন্য দায়ী, আমি নিজেই অপরাধটি করেছি ! আমি মানতে পারছিলাম না কি করে আমার ভাই এমন একটি কাজ করতে পারলো! ভাই হারানোর শোকও তখন তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল আমার কাছে।

রিয়াদ আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে, সে মুমুর হাত ধরে বললো, আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে। আমি জানি তোমার সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে তার কোনো ক্ষমা নেই, প্রায়শ্চিত্ত নেই ।

মুমু অবাক হয়ে ভাবছে, কি বৈপরীত্য দুটি মানুষের মাঝে । একজন তার জীবনকে কলঙ্কিত করে গেছে , আর একজন এসেছে তার জীবনকে অলংকৃত করতে, তার পাশে থাকতে, তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে । একদিন একজনকে বিশ্বাস করে সে প্রতারিত হয়েছে কিন্তু আজ আরেকজন তাকে বিশ্বাস করে তার দিকেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘মুমুর পক্ষে এই বিশ্বাসের হাতকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না, কখনোই না’।

বিয়ের প্রথম রাত !!

বিয়ের প্রথম রাত মানে বাসর রাত ব্যাপার
টার
প্রতি আমার অনেকদিন এর ইন্টারেস্ট।নতুন
বিয়ে করা স্বামী স্ত্রী জিবনে প্রথম বারের
মতো একই ঘরে একসাথে থাকে, কিভাবে প্রথম
কথা বলা শুরু করে কিভাবে কি হয় এইসব
জানতে আমার প্রচুর আগ্রহ।কেন এই
রাতটাকে স্বামী স্ত্রীর জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত
বলা হয়
আমাকে জানতেই হবে।
ফ্রেন্ড দেরকে জিজ্ঞেস করলাম এই
রাতে আসলে কি হয়? তারা বললো "আমরা কি
জানি?
আমাদের কি বিয়ে হইছে? " একে একে খালাত
মামাতো বোনদেরকে, ভাবী, দাদু শেষ পর্যন্ত
লাজ
লজ্জা ভুলে আম্মুকে( বেষ্ট ফ্রেন্ড) ও
জিজ্ঞেস
করলাম। কেউই আমাকে সঠিক
ভাবে বলেনি যে স্বামী স্ত্রী প্রথম কথা বলা
শুরু
করে কিভাবে?সবাই সারাংশ টা বলে শুধু। কি
আর
করা নিজের বাসর রাতের অপেক্ষা করতে
হলো।
চিন্তা করেছি নিজের বাসর রাতের কথা
কাউকে বলব
না,,, আমি যখন কারো টা জানতে পারিনাই
তখন

আমার টা কেন জানাবো? হুহহহ। পরে আবার
মনে হলো আসলে শেয়ার করা উচিৎ, হয়তোবা
আমার
মতো অনেকেই আছে যারা এই বিষয় টা
জানতে চায়।
জানতে চায় হোয়াই বাসর রাত ইজ দ্যা
সরবশেষ্ঠ
রাত ফর হাজব্যান্ড ওয়াইফ??
.
লজ্জা লাগছে.. তবুও বলেই ফেলি। এরেঞ্জ
মেরিজ
হয়েছিলো আমাদের। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর
হালকা পাতলা কথা বলতাম হবু বর এর সাথে।
এই
কেমন আছি, কি করছি এইসব..
.
বিয়ের রাতে প্রায়
এগারোটার সময় আমাকে বাসর ঘরে নেয়া হয়।
তখন
আমার পরনে ছিলো সোনালী পাড়ের
লালচে খয়েরী শাড়ী,বিয়ের লাল
বেনারসি টা খুলে এটা পরানো হইছে । গলায়
ছোট
একটা হার, কানে দুল, হাতে খয়েরী কাচের
চূড়ি আর
আমার শাশুড়ির দেয়া একজোড়া সোনার
বালা।
সাজুগুজু বলতে চোখে কাজল, আর
ঠোঁটে হালকা খয়েরী লিপস্টিক।
.
আমি
বিছানায়
বসে আছি, আর আমার স্বামী বাইরে।আমার
ননদ,দেবর, খালাতো, মামাতো দেবররা আর ওর
বন্ধুরা ওকে ভেতরে আসতে দিচ্ছিলোনা।
আমার
ইচ্ছা করছিলো ওদের সাথে আন্দোলনে যোগ
দিয়ে জোর গলায় বলি দাবিকৃত
টাকা না দিলে ভেতরে আসা নিষিদ্ধ। কিন্তু
আমি নিজের মনকে শক্ত করে বিছানায় বসে
ছিলাম।
.
একটু পরে সে ভেতরে আসলো।এরপর আমার
পাশে বসিয়ে মালা বদল
করানো হলো,ছবি তোলা হলো আর ভিডিও
করা হলো,বিয়ের ভিডিও তে এই সিনটা
দেখানোর
সময় গান চলবে "আজ মধুর রাত আমার ফুলশয্যা
"।
.
সবাই রুম থেকে চলে যাওয়ার পর আমার
ভাবী রুমে এসে ওকে বাইরে যেতে বললো।
কানে কানে আমাকে অনেক কিছুই
শিখিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। তারপর
তিনি এসে দরজা বন্ধ করলেন।বাতি নিবিয়ে
নীল রং ড্রিম লাইট জালালেন।একটু আগেও আমার
লজ্জা লাগছিলো না,কিন্তু
ভাবী বলছে লজ্জা না লাগলেও চেহারায়
জোর
করে হলেও লজ্জা লজ্জাভাব রাখতে অথচ উনি
আসার
সাথে সাথেই আপনা আপনি আমি লজ্জা
পাচ্ছিলাম।
উনি বিছানার পাশে দাড়িয়ে কাঁচুমাচু
করছে আমি বিছানা থেকে নেমে উনার পা
ছুয়ে সালাম
করলাম। মনে হচ্ছে উনি কিছুটা বিব্রত বোধ
করেছেন।
আমি একপাশে দাঁড়ালাম, উনি আমাকে বসতে
বললেন।
আমি বিছানায় বসলাম। আমার
মনে হচ্ছিলো উনি আমার ঘোমটা উঠাতে
চাচ্ছিলেন,
যদিও আমার ঘোমটা উঠানোর মতো অত বড়
ছিলো না, তবুও আমি বড় করে ঘোমটা টেনে
দিলাম।
আমি টিভিতে দেখেছি এই সিনটা অনেক
ইন্টারেস্টিং।
তারপর তিনি আমার কাছে আসলেন,আমার বুক
ধুকপুক
শুরু করে দিলো।
পেছনে সরে যেতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু
পারছিলাম
না মনে হচ্ছে কিছু
একটা আমাকে সেখানে আটকে রেখেছ।
আস্তে আস্তে ঘোমটা উঠালেন,আমার
লজ্জা লাগছিলো তাই নিচের দিকে তাকিয়ে
ছিলাম।
উনি বললেন
-- খুব সুন্দর লাগছে
--মাশাল্লাহ বলেন (হঠাৎ করেই সব লজ্জা দূর
হয়ে গেল)
--মাশাল্লাহ,আসলেই সুন্দর তুমি
-- জি ধন্যবাদ, আসলে মেকাপ করছি তো তাই
-- দিনে তো মেকাপ আরও বেশি ছিলো, তখন
এতোটা সুন্দর লাগেনি এখন মেকাপ
ছাড়া যতোটা লাগছে
-- পাম না?
-- তোমাকে পাম মেরে আমার লাভ কি?
আমি তো আর তোমাকে পটাচ্ছি না
-- অবশ্যই পটাচ্ছেন, আমি কিছু বুঝিনা না?
--পটাবো কেন? আমাদের তো বিয়ে হয়ে
গেছে, এখন
তোমার সাথে প্রেম করার কোন ইচ্ছা নেই
আমার
-- প্রেমের জন্য পটানি না
-- তাহলে?
-- তাহলে কি?? কিছুনা
-- তো?
-- তো কি? ভাবী বলছে আমাকে আর আপনাকে
নামায
পরতে -- কখন?
-- এখন, আমার আঁচলের উপর বসে আপনাকে
নামায
পরতে হবে
-- জানতাম না তো
-- কিছু না জেনেই বাসর ঘরে চলে আসছেন?
এটা নিয়ম,
মানতে হয়
--কেন?
--এইযে আমি আপনাকে স্বামী হিসেবে আর
আপনি আমাকে স্ত্রী হিসেবে পাইছেন তাই
আল্লাহর
কাছে শুকরিয়া আদায় করে নামায পরতে হয়
-- ওওও.. ঠিক আছে চলো
এরপর আমরা নামায পড়লাম। আবার বিছানায়
বসে আছি হঠাৎ আমি বলে উঠলাম
--আমি আপনাকে দেখব
--মানে?
--মানে আপনি আমার ঘোমটা উঠিয়ে আমাকে
দেখছেন
আমিও আপনাকে দেখব
-- আমার তো ঘোমটা নেই, তুমি কি উঠিয়ে
দেখবা
-- নাই তো কি হইছে? আপনি সোজা হয়ে
দাড়ান,
আমি আপনাকে ঘুরে ফিরে দেখবো
-- ওকে, তোমার যা ইচ্ছে
আমি উনাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত
দেখলাম।
হালকা নীল রং এর পাঞ্জাবি আর জিন্স
প্যান্ট
পরছে। ভালোই লাগতেছিলো। তারপর আবার
দুজনে বিছানায় বসলাম।
-- তো?
-- তো কি?
-- নাহ কিছু না এমনি
--আচ্ছা বাসর রাত সম্পরকে আপনার
আইডিয়া কেমন?
--কোন আইডিয়া নেই। আজকেই প্রথম, এর
আগে কখনো বাসর রাত হয়নি আমার
--সেকি? বন্ধুদের কাছ থেকে তো নিশ্চয় কিছু
জানতে পারছেন
-- হ্যা তা জানছি
-- আচ্ছা প্লিজ বলেন আমাকে
--তুমি আমাকে আগে বলো তোমার
বান্ধবীরা তোমাকে কি ধারনা দিছে?
--কিছুই বলেনাই গাধী গুলা
--ভাবি এসে তখন কি শিখাইছে?
--ওই যে আপনাকে দেখে লজ্জা পাইতে বলছে
-- ও তার মানে ভাবী বলাতে তুমি লজ্জা
পাইছো?
-- না না, প্রাকৃতিক ভাবেই লজ্জা পাইছি
-- আচ্ছা আর কি বলছে?
-- সালাম করতে বলছে আর নামায পরতে বলছে
--আর?
-- আর কি?
--আর কিছু বলেনাই?
-- নাতো, আর কিছু বলেনাই। আপনি বলেন
আপনার
বন্ধুরা কি বলছে?
-- বলছে বাসর রাত স্বামী স্ত্রীর জীবনের
শ্রেষ্ঠ
রাত
-- জানি আমি, তারপর?
--না ওই বলছে যে ওয়াইফ কে হাজব্যান্ড
আদর..
--থাক থাক আর বলতে হবে না।আপনার বন্ধুগুলা
বদের
হাড্ডি। কুবুদ্ধি দিয়া আমাদের বাসর আনন্দ
টাই নষ্ট
করতে চাইছে।
-- তাইলে বাসর রাতের আনন্দ
টা তাজা রাখে কিভাবে? বাসর রাতে একটু
আকটু..
-- এইযে শোনেন, ভাবী বলছে যতক্ষণ না
পর্যন্ত
আমি বিয়ের মোহরানা মাফ না করব ততক্ষণ
পর্যন্ত
আপনি আমাকে টাচ করতে পারবেন না,
যেহেতু
আপনি মোহরানার টাকা নগদ আমার
হাতে দিতে পারেননি
-- এটা জানি আমি, সো তুমি কি মোহরানা
মাফ
করছ?
-- জিনা, নগদ সব টাকা পরিশোধ করেন
-- এতো রাতে এতো টাকা কোথায় পাব? মাফ
কইরা দিলে কি হয়?
--অনেক কিছুই হয়, সো আমি মাফ করব না
-- প্লিজ? তোমার হাজব্যান্ড হিসেবে আমার
প্রতি তোমার মায়া থাকা উচিৎ
-- তাতো আছেই।
--তাহলে? অসুবিধে কোথায়?
--ঠিক আছে। একটা কন্ডিশন আছে
-- কি?
-- আপনি আমাকে আজকে টাচ করতে
পারবেননা
-- এইডা কিছু হইলো? ঠিক আছে না করলাম
টাচ,,,
এবার তো মাফ করো
-- উমমমমমম ঠিক আছে, করলাম
--থ্যাঙ্কস,তোমার জন্য একটা গিফট আছে
.
বলেই পকেট থেকে একটা সোনার চেইন বের
করলো
--পরিয়ে দিবো?
-- আম আম মানে, ইয়ে না, ঠিক আছে
পরানোর সময় আমার অনেক আনইজি ফিল
হচ্ছিলো তাই পরানোর সাথে সাথেই বললাম
--একটা কাজ বাকি আছে
-- কি কাজ?
--আমার বাসর
ঘরটা কিভাবে সাজানো হইছে ভালো করে
তো দেখিইনি
-- অহহহ, দেখো তাইলে
-- ওয়াও, সুপারববব.. অস্থির, আমার পছন্দ হইছে,
আপনার রুমটা ও আমার পছন্দ হইছে
-- শুনে খুশি হলাম
-- এএএএএএএএএএ ( বলেই নাককান্না শুরু
করে দিলাম)
--কি হলো? এমন করছ কেন?
-- এতো সুন্দর ফুলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে,,
এএএএএএএএএ
-- নষ্ট হবে কেন? আমরা কেয়ারফুল থাকলেই
তো হয়
-- মানে কি? আমি কি বুঝাতে চাচ্ছি আর
আপনি কি বুঝলেন?
-- সরি?? তুমি কি বুঝাতে চাচ্ছ?
-- আমি বলছি ফ্যানের বাতাসে ফুলগুলো নষ্ট
হয়ে যাবে,, এএএএএএএএএ
-- ফ্যান??? বাতাস?? এই শীতের রাতে ফ্যান
ছারবে কে?
-- আমি ছারবো, বছরে কমপক্ষে ৩৫০ দিন
আমি ফ্যান চালিয়ে ঘুমাই
-- মানে?? শীতের মদ্ধে ও?
-- হ্যা, সারাবছর ফ্যান ছাড়ি আর কাঁথা গায়ে
দেই
-- পাগল নাকি?? এটা কেমন কথা??
-- জি আমার সাথে থাকতে হলে এভাবেই
থাকতে হবে।
ব্যাপার না অভ্যাস হয়ে যাবে
-- আমি এমনিতেই ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি
-- মিথ্যা বলেন কেন? আমি স্পস্ট
দেখতেছি আপনি ঘামতেছেন
-- ওওওই টাতো তোমাকে দেখে.. জিবনে প্রথম
বাসর
তো তাই একটু টেনশনে আছি
--ওকে আজকে আমরা ফ্যান চালাবো না,
আমি চাইনা এতো সুন্দর ফুল গুলা নষ্ট হোক
-- থ্যাঙ্কস, চলো ঘুমাই, তোমার ঘুম
আসছে মনে হচ্ছে
-- নাহ আজকে ঘুমাবো না তো, সারারাত
আমরা গল্প করব,আর
যদি আমি ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে আমাকে ডেকে
তুলবেন।
বাই দ্যা ওয়ে আমরা কি একই বিছানায়
ঘুমাবো?
-- আপনার কি আলাদা বিছানায় ঘুমানোর
ইচ্ছা?
তাইলে আমি অন্য রুমে যাই
-- না না না,,, ঠিক আছে, ম্যানেজ করে নেব।
আর
দুজনের জন্য একটাই কম্বল???
-- ওটাও ম্যানেজ করে নিও
-- আপনি কি এই বস্তা পড়ে ঘুমাবেন?
-- বস্তা???
-- হুম ঐ জিন্স প্যান্ট টা, এগুলো পড়ে ঘুমান
কিভাবে?
-- তুমি শাড়ী পরে ঘুমাবা কিভাবে?
-- প্র্যাকটিস আছে, বিয়ের আগে ট্রাই করছি
-- আমারো প্র্যাকটিস..
-- এইযে এই দাগ দিয়ে দিলাম, এই দাগের ও
পারে আপনি থাকবেন আর এপারে আমি
-- ঘুমের মধ্যে যদি ওপারে চলে যাই?
-- মাইর লাগাবো ধরে -- আর যদি তুমি চলে
আসো?
-- আসবোনা, আর আসলেও আপনি আমার
হাজব্যান্ড সো প্রবলেম না
-- সুবিধাবাদী
-- কিছু বল্লেন?
-- কই কিছুনা
-- আপনি ঘুমের মধ্যে নাক ডাকেন?
-- জানিনাতো,,, টের পাইনি কখনো
-- যদি নাক ডাকেন তো বিছানা থেকে ফেলে
দিবো
-- আরে ধ্যাত,, সত্তি নাক ডাকিনা আমি
-- গুড, এখন একটা গল্প শোনান
-- কি গল্প?
-- আপনার পাস্ট
-- বিয়ের আগেইতো বলেছি
-- ঠিক আছে আমার টা বলি, বিয়ের আগে
প্রথম
দেখায় একটা ছেলের প্রেমে পড়ে...
-- এটা জানি আমি
-- ও আগেই বলে ফেলছি নাকি? খেয়াল নাই।
আচ্ছা ঠিক আছে তাইলে আমরা আমাদের
ফিউচার
নিয়ে কথা বলি?
-- সেটাই ভালো হয়
-- আমাদের মোট তিনটা ছেলেমেয়ে হবে
-- তিনটা??????? কম হয়ে গেল না???
-- না ঠিকি আছে
-- একটা হলেও তো যথেষ্ট
-- না না না, তিনটাই। একটা মেয়ে আর দুইটা
ছেলে,,,
তবে প্রথমে অবশ্যই মেয়ে হতে হবে
-- সেটা তো আল্লাহর হাতে
-- তা ঠিক, তবুও
-- তারপর বলো, নাম টাম ঠিক করে ফেলছ
তাদের ?
-- মোটামুটি
-- তোমার হাতটা একটু ধরবো?
-- একদম না
--ধরি না প্লিজ
--ওকে
-- সেই প্রথম দিন থেকে এই আংটি টা তোমার
হাতে দেখছি,, ও দিছে তাইনা?
-- হ্যা, খুলতে ইচ্ছে করেনা তবে আপনি যদি
বলেন
তাহলে খুলে ফেলব
-- পরতে পারো, তবে একটা কন্ডিশন আছে
-- কি?
-- আমাকে তুমি করে বলতে হবে
-- আমারো একটা কন্ডিশন আছে
-- বলো
-- আমাকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসতে
হবে
-- তুমি বলা লাগবেনা।এমন ভালোবাসবো যে
তখন
তুমি নিজেই বলবা এতো ভালোবাস কেন
আমারে?
-- থাকবেশি ভালোবাসতেহবেনা। হারানোর
ভয় থাকে
-- ধুর পাগলী, কি বলো এসব?
-- আর এ একটা জিনিস তো ভুলেই গেছি
-- কি?
-- আমার ইচ্ছা ছিলো বাসর রাতে আমি আর
আমার
হাজব্যান্ড নাচবো,, চলেন নাচি
-- এখন?? মানুষ শুনলে??
-- শুনবে না, আমরা তো আর বেবি ডল বা
ধুম্মাচালের
সাথে নাচবো না,, লো ভলিউমে স্লো
মোশনের
গান। যেমন ধরেন তেরি মেরি, তুম হি হো,
বা তুমকো পায়া হ্যায় তো
-- আমি একটা বলি? আজ ফের তুমপে পেয়ার..
-- যাহহহহ,, চলেন তুম হি হো দিয়ে।
আপনি নাচতে পারেন তো?
-- না
-- হিহিহি আমিও পারিনা। ব্যাপার না,
আন্দাজে নাচবো
.
এরপর আমরা আন্দাজে নাচার ট্রাই করলাম ।ইট
ওয়াজ হালকা পাতলা রোমান্টিক। গান শেষ
হওয়ার
আগেই হাসতে হাসতে উনাকে জড়িয়ে ধরলাম
আমি আর
উনি আমাকে। আস্তে আস্তে তিনি আরও
বেশি রোমান্টিক হয়ে যাচ্ছিলেন,
আমাকে কোলে করিয়া খাটে উঠাইলেন।
পরিস্থিতি বুঝতে পারিলাম আমি। থোরা সা
ভয়
পেতে লাগিলাম তাহাকে।
-- আ আ আ আমার ঘুম আসতেছে
-- হোয়াট??? সিরিয়াসলি??
-- হ্যা আমি ঘুমাবো
-- সত্তি তো?
-- হুমমম সত্তি
এমন সময় উনার ফোন বেজে উঠলো।
ওপাশে কি বলতেছে আমি শুনতে পাইনি,
খালি এনারটা শুনছি
-- বল
--
-- নাচতেছি
--
-- না একাই
--
-- ভাবি ঘুমায়
--
-- যা ব্যাটা, ফাযিলের দল.. ফোন রাখ
এবার আমার দিকে তাকালেন, আমি
তাড়াতাড়ি চোখ
বন্ধ করে ফেললাম
-- তোমার না ঘুম আসতেছে?
-- ফযরের আযান দিছে, নামায টা পড়ে ঘুমাই?
-- ঠিক আছে
.
নামায পড়ে শুইছি, বিছানায় বর্ডার
দেয়া আছে তখনো। উনি আমার হাত ধরে শুয়ে
আছে।
.
হঠাৎ আবার আমি উঠে বসলাম আর
এএএএএএএএএ
করে কাঁদতে লাগলাম, এবার কিন্তু
সত্তি সত্তি চোখের পানি বের হচ্ছিলো
-- আবার কি হলো?
-- আম্মুর কাছে যাবো এএএএএএএএএ
-- এখন??
-- হ্যা এখনি, আম্মুউউউউউ
-- এতো বড় মেয়ে হয়ে এতো রাতে আম্মুর জন্য
কাঁদতেছ , সকালে দেখা হবে তো
-- ঠিকাছে তাইলে ফোন দিয়ে কথা বলি
-- এখন উনারা ঘুমাচ্ছে
-- নাহহহ জেগে আছে
--হ্যালো
-- আম্মুউউউউউ
-- কি হইছে? কাঁদতেছিস কেন?
-- মিসিং ইউ মাম্মা
-- আমিও তো তোরে মিস করতেছি, এখনো
ঘুমাইনি,
তোর আব্বু ও এতক্ষন তোর কথা বলে কাঁদতেছে
-- এএএএএএএএএ ক্যান বিয়ে দিছো?
আমি এখানে থাকতে পারব না
-- আস্তে আস্তে ঠিক
হয়ে যাবে। জামাই কই?
-- এখানেই আছে,জানো মা আমরা অনেক
দুষ্টুমি করছি
-- মানে কি? কি করছস?
-- তোমাকে বলবো কেন? তুমি বলছিলা
আমাকে??
-- তুই আর বড় হইলিনা, জেগে আছস যখন নামায
টা পরে নে
-- পড়েছি
-- আলহামদুলিল্লাহ. কেমনে কেমনে? নিশ্চই
জামাই
জোর করে পড়াইছে। ফযরের নামায তো
কখনোই
পড়িস নাই মনে হয়
-- আম্মু তুমি আমারে ইনসাল্ট করতেছ,
আজকে আমি নিজে থেকে নামায পড়ছি
-- শুনে খুশি হইলাম,, এবার থেকে সব কিছু
নিজে করবি,, খালি নিজের টা না হাজব্যান্ড,
শশুর
শাশুড়ি সবার সেবা করতে হবে তোকে।সংসার
টা এখন
তোর ও
-- পিচ্চিকাল থেকেই তো এইসব শুনে আসতেছি

দেইখো তুমি আমি আইডিয়াল হাউজ ওয়াইফ
হবো,ইনশাআল্লাহ প্রাউড ফিল করবা আমারে
নিয়া।
-- ইনশাআল্লাহ,, এখন ফোন রাখ, খালি বকবক
-- এখনি পর করে দিলা? ঠিকাছে, তোমরা
কিন্তু
তাড়াতাড়ি আসবা, কতোদিন দেখিনি
তোমাদেরকে?
-- পাগল... এক রাত দেখিস নাই
-- তবুও আমার কাছে অনেক দিন লাগতেছে,
আচ্ছা রাখি, আল্লাহ হাফেজ
আমার হাজব্যান্ড এতক্ষন আমাদের
কথা শুনতেছিলো।
-- এইবার খুশি তো?
-- আব্বু কাঁদতেছে, আম্মুও।
আমি এখানে একা থাকবো কিভাবে?
-- একা কোথায়? আমিতো আছি,,
-- তবুও
-- হইছে আর
কাঁদতে হবেনা (বলে আমাকে বুকে টেনে
নিলো,আমি উনাকে জড়িয়ে ধরে বল্লাম)
-- তোমার দোষ। তুমি আমারে বিয়ে করছ কেন?
নাইলে আমি আমার আম্মুর কাছেই থাকতাম
-- ওলে আমাল আল্লাদী.. বিয়ে করছি বলে
সরি। আর
কখনো তোমায় বিয়ে করবনা। এখন ঘুমাও
(বলে আমার কপালে চুমো খেলেন)
-- ভোর হয়ে গেছে তো, এখন ঘুমালে সারাদিন

উঠতে পারবোনা
-- তো কি করবা? বাইরে হাটতে যাবা?
-- চলো যাইইই,,,,
বাইরে হাত ধরাধরি করে হাটতেছি আমরা।
-- আচ্ছা কেউ যদি আমাদের দেখে ফেলে?
-- তো? আমি আমার বউকে নিয়ে হাটতেছি..
কে কি বলবে?
-- হুম তাও ঠিক। ওই তুমি গায়ে হলুদের রাতে
আমাদের
বাড়িতে আসলানা কেন?
-- আমি কিভাবে যাবো? জামাইরা কি হলুদ
করতে যায়?
-- তুমি আসতা, লুকিয়ে তো আসতে পারতা ।
আমি তোমার মুখে হলুদ মাখতাম
-- আমার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু.. আর তুমিওতো
যাইতে বলোনাই
-- বিয়ের দিনো তো আসতে বলিনাই, আসছ
কেন? হুমমমমম??
--আমি যাইতে চাইনাই জোর করে নিয়ে গেছে
-- এহহহহহ জানিনা মনে হয় আমি, নাচতে
নাচতে চইলা আসছ
-- কচু
-- হইছে এখন একটা গান শোনাও
-- মানে কি? তুমি কি ঠিক করেই রাখছ যে
তোমারে বিয়ে করছি এই অপরাধে তুমি
আমারে বাসর রাতে নাচাইবা বারি গান
গাওয়াইবা?
-- এমন করো কেন? প্লিজ গাওনা.. ভয়েস সুন্দর
না হলেও চলবে, প্লিজ
-- পারিনা আমি.. লজ্জা লাগতেছে
-- গাও বলতেছি
-- শোনোগো রূপসী ললনা
আমাকে যখন তখন
চোখ রাঙানো চলবেনা
-- হাহাহাহা তুমি এতো শয়তান ক্যান?
-- তুমি কি কম?
-- তোমার মতো না
-- হুম আমার থেকে একটু বেশীই
-- হিহিহি একটা কথা বলব?
-- বলো
-- সরি
-- কেন?
-- না মানে আপনি আপনার বাসর
রাতটা অন্যভাবে চিন্তা করছেন আর আমি
-- না না না, ভালোই তো কাটছে.. অন্নেক
এঞ্জয়
করছি, কল্পনার বাইরে। এমন একটা সুন্দর,
শ্রেষ্ঠ
রাত উপহার দেয়ার জন্য তোমার কাছে চির
কৃতজ্ঞ..
হুহহ
-- হা হা হা শুকরিয়া শুকরিয়া
এরপর ও আমার
কানে কানে একটা কথা বললো সেটা
আপনাদের
কে বলবোনা।